Press release
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ গবেষকদের উদ্যোগে যাত্রা শুরু Stat.BD-এর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান বিভাগের একদল তরুণ গবেষকের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করেছে রিসার্চ ও ডেটা অ্যানালাইসিস ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান Stat.BD।
বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই উদ্যোগটির শুরু। ভালো রিসার্চ কোয়েশ্চেন কিংবা প্রয়োজনীয় ডেটা থাকার পরও অনেক গবেষণা স্টাডি ডিজাইন, সঠিক স্ট্যাটিস্টিক্যাল মেথড নির্বাচন, ডেটা অ্যানালাইসিস কিংবা রেজাল্ট ইন্টারপ্রিটেশনের পর্যায়ে এসে আটকে যায়। আবার সফটওয়্যার ব্যবহার জানা থাকলেও কোন মেথড কেন ব্যবহার করা হচ্ছে কিংবা পাওয়া রেজাল্ট আসলে কী বোঝাচ্ছে, সেটি অনেক সময় পরিষ্কার থাকে না।
এই জায়গায় গবেষকদের জন্য আরও গোছানো সাপোর্ট ও পারসোনালাইজড মেন্টরশিপের সুযোগ তৈরি করার ভাবনা থেকেই Stat.BD-এর যাত্রা।
বর্তমানে Stat.BD শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক, ইন্ডিপেনডেন্ট রিসার্চার এবং বিভিন্ন পেশাজীবীকে রিসার্চ মেথডোলজি, স্ট্যাটিস্টিক্যাল অ্যানালাইসিস, সার্ভে ও কোয়েশ্চেনেয়ার ডিজাইন, ডেটা প্রস্তুতি, রেজাল্ট ইন্টারপ্রিটেশন, ম্যানুস্ক্রিপ্ট অ্যানালাইসিস ও রিভিশন এবং রিসার্চ মেন্টরশিপে সাপোর্ট দিচ্ছে। কাজের প্রয়োজন অনুযায়ী দলের সদস্যরা R, Python, SPSS, Stata ও Excel সহ বিভিন্ন অ্যানালিটিক্যাল সফটওয়্যার ব্যবহার করছেন।
তবে উদ্যোক্তারা বলছেন, Stat.BD-এর লক্ষ্য কারও ডেটা অ্যানালাইসিস করে একটি রেজাল্ট বা টেবিল দিয়ে দেওয়া নয়। একজন রিসার্চার যেন নিজের অ্যানালাইসিস বুঝতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় মেথডলজি ও এনালাইসিস হাতেকলমে শেখানো। যেনো তারা কেন একটি নির্দিষ্ট মেথড ব্যবহার করা হয়েছে সেটি ব্যাখ্যা করতে পারেন এবং নিজের রিসার্চ রেজাল্ট নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, সেই জায়গাটিকে তারা বেশি গুরুত্ব দিতে চান।
Stat.BD-এর প্রতিষ্ঠাতা মুহতাসিম মুনীফ ফাহিম বলেন,
Stat.BD আসলে কোনো বিজনেস প্ল্যান থেকে শুরু হয়নি। রিসার্চের কাজ করতে গিয়ে আমরা বারবার দেখেছি, ভালো রিসার্চ কোয়েশ্চেন এবং ডেটা থাকার পরও অনেক কাজ অ্যানালাইসিসের জায়গায় এসে আটকে যাচ্ছে। কখনো সঠিক মেথড নির্বাচন করা যাচ্ছে না, আবার কখনো সফটওয়্যার থেকে আউটপুট পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু সেটার অর্থ পরিষ্কার নয়। তখন মনে হয়েছে, এই জায়গায় যদি রিসার্চাররা ভালো গাইডেন্স পান, তাহলে অনেক কাজই আরও ভালোভাবে করা সম্ভব।
ফাহিম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের Data Science Research Lab-এ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মেশিন লার্নিং এবং অ্যাপ্লাইড স্ট্যাটিস্টিক্স নিয়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত।
তিনি বলেন, Stat.BD-কে শুধু থিসিস, ডিসার্টেশন কিংবা স্টুডেন্ট রিসার্চ প্রজেক্টের সাপোর্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা তাদের নেই।
আমরা খুব ছোট পরিসর থেকে শুরু করেছি। এই মুহূর্তে আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি শক্ত রিসার্চ কালচার এবং রিলায়েবল ওয়ার্কফ্লো তৈরি করা। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আমরা Stat.BD-কে একটি প্রফেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ফার্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এবং দেশি-বিদেশি রিসার্চ টিমের সঙ্গে বড় প্রজেক্টে কাজ করা সম্ভব হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৈরি হওয়া গবেষণার দক্ষতাকে আরও বড় পরিসরে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
ফাহিম বলেন,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক তরুণ রিসার্চার স্ট্যাটিস্টিক্স, ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং এবং বিভিন্ন অ্যাপ্লাইড রিসার্চ নিয়ে কাজ করছেন। এই স্কিলগুলো শুধু থিসিস বা পাবলিকেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজন নেই। বাস্তব রিসার্চ প্রবলেম সমাধানেও এগুলো কাজে লাগানো সম্ভব। Stat.BD সেই জায়গায় একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার চেষ্টা।
Stat.BD-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাঈম মোল্লা বলেন, স্ট্যাটিস্টিক্যাল সফটওয়্যার ব্যবহার করতে জানা এবং একটি রিসার্চ অ্যানালাইসিস সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।
R বা SPSS-এ একটা টেস্ট রান করা খুব কঠিন কাজ নয়। আসল বিষয় হলো, রিসার্চ কোয়েশ্চেনের জন্য ওই মেথডটাই কেন উপযুক্ত, তার অ্যাসাম্পশনগুলো ঠিক আছে কি না এবং রেজাল্ট থেকে আসলে কতটুকু বলা যায়, সেটা বোঝা। আমরা চাই না কেউ আমাদের সঙ্গে কাজ করার পর শুধু একটা টেবিল বা আউটপুট নিয়ে চলে যাক। সে যেন নিজের অ্যানালাইসিসটা বুঝতে পারে এবং প্রয়োজনে সুপারভাইজার, রিভিউয়ার বা ভাইভা বোর্ডের সামনে সেটি ব্যাখ্যা করতে পারে।
এই ভাবনা থেকেই Stat.BD-এর কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রাখা হয়েছে এবং জোর দেয়া হয়েছে ওয়ান-টু-ওয়ান রিসার্চ মেন্টরশিপের জন্য। একজন শিক্ষার্থীর রিসার্চ এরিয়া, বর্তমান স্কিল এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বুঝে তার জন্য আলাদা লার্নিং প্ল্যান তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মধ্যে স্ট্যাটিস্টিক্স, রিসার্চ মেথডোলজি, প্রোগ্রামিং, ডেটা অ্যানালাইসিস ও ডেটা সায়েন্সের মতো বিষয় রয়েছে।
উদ্যোগটি শুধু বাইরে থেকে আসা রিসার্চারদের সাপোর্ট দেওয়ার জায়গা হিসেবেই নয়, নিজেদের দলের জুনিয়র রিসার্চারদের জন্যও বাস্তব রিসার্চ প্রজেক্টে কাজ করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চান উদ্যোক্তারা।
দলের তরুণ গবেষক জয়জিৎ সরকার বলেন,
ক্লাসে স্ট্যাটিস্টিক্স শেখা আর রিয়েল ডেটাসেট নিয়ে কাজ করা এক জিনিস নয়। বাস্তব ডেটা অনেক সময় অগোছালো থাকে, রিসার্চ কোয়েশ্চেনও টেক্সটবুকের মতো সবসময় পরিষ্কার থাকে না। সিনিয়র রিসার্চারদের সঙ্গে এসব প্রবলেম নিয়ে কাজ করলে শুধু সফটওয়্যার ব্যবহার নয়, অ্যানালিটিক্যাল ডিসিশন কীভাবে নিতে হয় সেটাও শেখা যায়। আমার কাছে এই হ্যান্ডস-অন রিসার্চ এক্সপেরিয়েন্সটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
Stat.BD-এর উদ্যোক্তারা জানান, কোনো রিসার্চ প্রজেক্ট এলে প্রথমে তার রিসার্চ কোয়েশ্চেন, ডেটা, প্রয়োজনীয় মেথডোলজি এবং অ্যানালাইসিসের ধরন বোঝার চেষ্টা করা হয়। এরপর বিষয় ও মেথডের সঙ্গে মিল রেখে দলের সংশ্লিষ্ট রিসার্চার বা অ্যানালিস্টের কাছে কাজটি দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে গুরুত্বপূর্ণ অ্যানালাইসিস দলের অন্য একজন রিসার্চারও রিভিউ করেন।
একই সঙ্গে একাডেমিক ইন্টেগ্রিটি নিয়েও শুরু থেকেই স্পষ্ট অবস্থান রাখতে চায় Stat.BD। শিক্ষার্থীর হয়ে পরীক্ষা বা গ্রেডেড অ্যাসাইনমেন্ট করা, ডেটা ফ্যাব্রিকেট বা ম্যানিপুলেট করা কিংবা নির্দিষ্ট রেজাল্ট পাওয়ার জন্য অ্যানালাইসিস বদলে দেওয়ার মতো কাজ প্রতিষ্ঠানটির আওতার বাইরে।
উদ্যোক্তাদের মতে, একজন রিসার্চারের হয়ে রিসার্চ করে দেওয়া নয়, বরং তাকে সঠিক মেথড, অ্যানালাইসিস এবং রিসার্চ প্রসেস বুঝতে সহায়তা করাই তাদের উদ্দেশ্য।
বর্তমানে Stat.BD একটি স্বাধীন, রিসার্চারদের নেতৃত্বে পরিচালিত উদ্যোগ। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান বা ইউনিট নয়। তবে এর প্রতিষ্ঠাতা এবং টিমের একটি বড় অংশের একাডেমিক ট্রেনিং ও রিসার্চ এক্সপেরিয়েন্স গড়ে উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রিসার্চ ল্যাবকে কেন্দ্র করে।
এই বিশ্ববিদ্যালয়-ভিত্তিক পরিচয়কে উদ্যোক্তারা Stat.BD-এর অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ল্যাব ও একাডেমিক পরিবেশে তৈরি হওয়া স্ট্যাটিস্টিক্যাল, ডেটা সায়েন্স ও রিসার্চ স্কিলকে বাস্তব প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে একদিকে গবেষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উপকৃত হবে, অন্যদিকে তরুণ গবেষকেরাও হাতে-কলমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
তাদের প্রত্যাশা, Stat.BD-এর পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তরুণ রিসার্চারকে বাস্তব গবেষণা প্রজেক্ট, কোলাবোরেশন এবং প্রফেশনাল রিসার্চের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
ছোট একটি রিসার্চার টিমের উদ্যোগ হিসেবে শুরু হলেও Stat.BD-এর পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদি। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, রিসার্চ অর্গানাইজেশন, ডেভেলপমেন্ট সেক্টর, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিসার্চ টিমের সঙ্গে কাজের পরিধি বাড়িয়ে ধীরে ধীরে বাংলাদেশভিত্তিক একটি প্রফেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ফার্ম হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
লোগো